0
‘শিব’ শব্দের অর্থ
‘শিব’ শব্দের অর্থ
আক্ষরিক বিশ্লেষণে দেখা যায়- ‘শিব’ শব্দের অর্থ ‘মঙ্গল’ আর ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ প্রতীক বা চিহ্ন। শাস্ত্র ‘শিব’ বলতে নিরাকার সর্বব্যাপি পরমাত্মা বা পরমব্রহ্মকে বোঝায়। তাই ‘শিবলিঙ্গ’ হচ্ছে মঙ্গলময় পরমাত্মার প্রতীক।
[*ভ্রষ্ট ব্যক্তিগণ বা অজ্ঞান অনেকেই ‘শিবলিঙ্গ’ বলতে পুরুষাঙ্গ বিশেষ মনে করেন-কিন্তু এটা ভ্রান্ত ধারণা। একথা সহজেই অনুমেয় যে, নিরাকার পরমাত্মার পুরুষাঙ্গ থাকতে পারে না। তাছাড়া পুরুষাঙ্গের সংস্কৃত প্রতিশব্দ ‘শিশ্ন’। আর ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ ‘প্রতীক’ বা ‘চিহ্ন’। শিবপুরাণ ও অন্যান্য সকল শাস্ত্রেই ‘শিবলিঙ্গ’ বলতে ‘পরমব্রহ্মের প্রতীক’-ই বোঝানো হয়েছে।]
শিবপুরাণ অনুসারে ভগবান শিবই একমাত্র ব্রহ্মরূপ হওয়ায় তাঁকে ‘নিষ্কল’ (নিরাকার) বলা হয়। যেহেতু তিনি ‘সর্বশক্তিমান’ তাই তিনি জগতকল্যাণের জন্য রূপধারণও করতে পারেন। রূপবান হওয়ায় তাঁকে ‘সকল’ বলা হয়। তাই তিনি ‘সকল’ এবং ‘নিষ্কল’-দুইই। শিব নিষ্কল-নিরাকার হওয়ায় তাঁর পূজার আধারভূত লিঙ্গও নিরাকার অর্থাৎ লিবলিঙ্গ শিবের নিরাকার স্বরূপের প্রতীক। তেমনই শিব সকল বা সাকার হওয়ায় তাঁর পূজার আধারভূত বিগ্রহ সাকাররূপ।
‘সকল’ (সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসহ সাকার) এবং ‘অকল’ (হস্তপদমুখচক্ষু ইত্যাদি অঙ্গ-আকার থেকে সর্বতোভাবে রহিত নিরাকার) রূপ হওয়াতেই শিব ‘ব্রহ্ম’ শব্দ দ্বারা কথিত পরমাত্মা। এইজন্যই সকলে লিঙ্গ (নিরাকার স্বরূপ) এবং মূর্তি (সাকার স্বরূপ)-দুয়েতেই পরমেশ্বর শিবের পূজা করে থাকেন। শিব ব্যতীত অন্য যেসকল দেবতা আছেন, তাঁরা সাক্ষাৎ ব্রহ্ম নন, তাই কোথাও তাঁদের নিরাকার লিঙ্গ দেখা যায় না। লিঙ্গ সাক্ষাৎ ব্রহ্মের প্রতীক।
তথ্যসূত্র: শিবপুরাণ

Post a Comment

 
Top