0
উত্তর প্রাথমিকের আগেই শিক্ষক নিয়োগ হবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে
উত্তর প্রাথমিকের আগেই শিক্ষক নিয়োগ হবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা আগে হলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফলপ্রকাশ ও ইন্টারভিউয়ের আয়োজন আগে করবে। বিকাশভবন সূত্রে খবর, স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে কারণ হল, রাজ্য সরকার চায়, যত বেশি সম্ভব বিএড প্রার্থী মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে আগে চাকরি পেয়ে যাক। ফলে উত্তর প্রাথমিকে প্রশিক্ষণহীনরা তুলনামূলকভাবে কম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন। তাঁদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নবম-দশম এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের বিএড ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক করেছে। কিন্তু উচ্চ প্রাথমিকের ক্ষেত্রে বিএড ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এমন অনেক প্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের বিএড ডিগ্রি রয়েছে। তাঁরা উচ্চ প্রাথমিকের টেট দেওয়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় বসেছেন। যদি আগে উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ এবং নিয়োগ আগে হয়ে যায়, তাহলে সিংহভাগ বিএড প্রার্থীই তাতে যোগ দিয়ে দেবেন। প্রশিক্ষণহীনদের কাছে আর কোনও সুযোগই থাকবে না। আবার পরবর্তীকালে যদি এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে সুযোগ পেয়ে চলে যান, তাহলে উত্তর প্রাথমিকে নিয়োগের ব্যাপারটাই কেঁচেগণ্ডূষ হয়ে যাবে। সে কারণেই শিক্ষাদপ্তর এই কৌশল নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের এক নেতার বক্তব্য, এর পিছনে মূল উদ্দেশ্য অন্য। আসলে প্রশিক্ষণহীনদের থেকে শাসকদলের একাংশ টাকা নিয়ে বসে আছে। তাঁদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তাই এটুকু স্বার্থ তো তাঁদের রক্ষা করতেই হবে। কিন্তু এসব করতে গিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা বঞ্চিত হলে, সেই জল কিন্তু বহুদূর গড়াবে। আদালতেই নিষ্পত্তি হবে বিষয়টির।
অন্যদিকে, পরিবর্তিত নিয়মে এসএসসি’র কাউন্সেলিং কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল বা এখনও পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য থেকে যা জানা গিয়েছে, তাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কমিশনগুলির ক্ষমতা কমবে। তবে ইন্টারভিউ হবে আঞ্চলিক কমিশনের মাধ্যমেই। সফল প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রীয় কমিশনে পাঠিয়ে দেবে তারা। সেই তালিকা থেকে চূড়ান্ত প্যানেল তৈরি করে রিজিওনাল কমিশনগুলির মাধ্যমে কাউন্সেলিং করাবে কেন্দ্রীয় কমিশন। কাউন্সেলিং পর্ব রিজিয়নের মাধ্যমে হলেও প্রার্থীদের স্কুল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক বাধা থাকবে না। আবেদনের সময়ই প্রার্থীদের ক্রমতালিকা অনুযায়ী পাঁচটি রিজিয়ন বেছে নিতে হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম পছন্দ, দ্বিতীয় পছন্দ বা তৃতীয় পছন্দ এরকম। ধরা যাক, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও প্রার্থী সার্দান রিজিয়নকে প্রথম পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। আর সাউথ-ইস্টার্নকে রেখেছেন দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায়। কিন্তু সাদার্নের তিনটি জেলা কলকাতা, হাওড়া বা দক্ষিণ ২৪ পরগনা মিলিয়ে যা আসন রয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যক প্রার্থী সেটিকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী কম নম্বর পাওয়ায় হয়ত তিনি সেই রিজিয়ন পেলেন না, সেক্ষেত্রে হিসাবমতো তিনি দ্বিতীয় পছন্দের রিজিয়ন পাবেন। কিন্তু সেখানে যদি তাঁর চেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকে, তাহলে যাঁরা সাউথ-ইস্টার্নকে প্রথম পছন্দের তালিকায় রেখেছেন, সেক্ষেত্রে ওই সফল প্রার্থী সাউথ-ইস্টার্ন রিজিয়নের কোনও স্কুল পাবেন না। মেধাকে প্রাধান্য দিতে গেলে নতুন ব্যবস্থায় মাঝারিমানের প্রার্থীদের বাড়ি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এমনিতে, একই রিজিয়নের মধ্যে পড়ায় কাকদ্বীপের প্রার্থীকে হাওড়ার পাঁচলার কোনও স্কুলে যোগ দিতে হতে পারে। সেই সম্ভাবনা আগেও ছিল। কিন্তু এবার কাকদ্বীপের সেই প্রার্থীকে মুর্শিদাবাদের কোনও স্কুলেও যেতে হতে পারে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গীয় মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির রাজ্য সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, এরা যখনই কোনও নিয়ম পরিবর্তন করে, তখনই আশঙ্কা তৈরি হয়। আসলে পূর্ব অভিজ্ঞতা তো একেবারেই ভালো নয়। এই নিয়মে বাড়ির কাছের স্কুলে তো চাকরি দিতেই পারবে না। মেধার সঙ্গেও যাতে আপস না করা হয়, সেটায় নজর রাখতে হবে।
Bartaman, 26/12/2016

Post a Comment

 
Top