0
চলুন চেনার চেষ্টা করি বিশ্বের ঐতিহ্যময় স্থানগুলোকে
ফটো সোর্স : www.google.com        চলুন চেনার চেষ্টা করি বিশ্বের ঐতিহ্যময় স্থানগুলোকে
হাজারা হাজার বছরের পুরনো এমন কিছু জায়গা আছে যা মানুষ কে স্তম্ভিত করে। জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো বিশেষ সাংস্কৃতিক বা ভৌত গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে পৃথিবীর এমন কিছু স্থানকেই “ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট” বা “বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান” হিসেবে তালিকা ভুক্ত করেছে। ২০১৪ সালে ১০০৭ টি ঐতিহ্যগত স্থান চিহ্নিত করেছে, এর মধ্যে ৭৭৯ টি সাংস্কৃতিক, ১৯৭ টি প্রাকৃতিক ৩১ টি মিশ্র প্রকৃতির। বিশ্ব ঐতিহ্যের কিছু স্থানের কথাই আজ আমরা জেনে নিই আসুন।
১। মাচু পিচু, পেরু
পৃথিবীর অত্যাশ্চর্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান গুলোর অন্যতম পেরুর মাচু পিচু। এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৭৯৭০ ফুট উপরে অবস্থিত প্রাচীন এক শহর। বেশিরভাগ প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে  করেন যে, ১৫শতকে ইনকা সম্রাট পাচাচুটি ( Pachacuti) এই শহরটি নির্মাণ  করেছিলেন। এটি “ইনকাদের হারানো শহর” নামেও পরিচিত। পেরুর আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান এই মাচু পিচু।
২। পিরামিড, মিশর
পৃথিবীর সবচেয়ে আইকনিক স্থান হচ্ছে গিজার পিরামিড। কায়রো শহর থেকে দূরে মরুভূমির উপর এই পিরামিড পরাবাস্তব দৃশ্যের অবতারণা করে। এই পিরামিডের পাশেই স্ফিংক্স এর মূর্তি প্রহরীর মত দাঁড়িয়ে আছে। পিরামিড ফেরাউনের সমাধিস্থল যা নির্মাণ করা হয়েছিলো ২৫৬০-২৫৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে। প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি এই পিরামিড।
৩। চীনের প্রাচীর
১৪ শতাব্দীতে নির্মিত হয় চীনের প্রাচীর যার দৈর্ঘ্য ৮৮৫০ কিলোমিটার। নোমাডিক যাযাবরদের আক্রমণ থেকে চীনের সাম্রাজ্যকে রক্ষার জন্য চীনের উত্তরের সীমানায় এই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এটি পাহাড় ও জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সাপের মত একেবেকে এগিয়ে গেছে। বৃহদাকার দেয়াল, দুর্গ ও প্রহরা কক্ষ আছে এই প্রাচীরে।
৪। রোমান কলোসিয়াম, ইতালি  
রোমানদের নির্মিত সবচেয়ে বড় ভবন হচ্ছে রোমান কলোসিয়াম। এটি রোম শহরের মাঝখানে অবস্থিত রোমান সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের নিদর্শন। এটি ৭২ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়। এটি পৃথিবীর পর্যটক আকর্ষণের স্থান গুলোর অন্যতম।
৫। তাজমহল, আগ্রা
মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় পত্নীর স্মৃতি রক্ষার্থে এই সাদা মার্বেল পাথরের সমাধি ক্ষেত্রটি নির্মাণ করেন। এর নির্মাণকাল ১৬৩২-১৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দ। তাজমহলের   দর্শনীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সমাধি ক্ষেত্রের উপরের মার্বেলের তৈরি গম্বুজ যাতে পদ্ম ফুলের নকশা করা। এই গম্বুজের উচ্চতা ১৫১ ফুট।
মায়ানমারের বেগান, কলোম্বিয়ার অ্যাংকর ওয়াট, গ্রীসের অ্যাক্রোপলিস, চিলির রাপানোই, মাল্টার ভালেট্টা, জর্ডানের পেত্রা, ইকুয়েডরের গেলাপেগাস দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট বেরিয়ার রীফ, মেক্সিকোর চিচেন ইতজা বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত।       

Post a Comment

 
Top